Saturday, August 31, 2019

বিশ্ব কাঁপানো ১০টি ঘটনা, যার আসল রহস্য হয়তো কখনোই জানা যাবে না


১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি

১) ১৯৬৯ সালে মানুষের চাঁদে পদার্পন: এটি বহু পুরানো একটি আলোচনা। সালটি ছিল ১৯৬৯ এটি ছিল পৃথিবীর জন্য একটি সপ্নের বছর। সপ্নকে সত্য করার বছর। এই দিন পৃথিবীর মানুষেরা প্রথম ছাদে তার পদধূলী রাখে। চাঁদ কে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে মানুষ। তখন অনেকে এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন ১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি। তারা কারন হিসাবে বলে তখনকার যেসকল প্রযুক্তি ছিল তা দিয়ে চাঁদে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব। তারা মনে করেন মার্কিনীরা তখন সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুটিং করে মানুষদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদের এও ধারনা যে স্ট্যানলি কুবরিক ছিলেন এর পরিচালক।

২)চির রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল
চির রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল



 বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল:  যুগ যুগ ধরে চির রহস্যময় একটি জায়গা হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। আজও মানুষ এর রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না, কেন এর কাছাকাছি কোন যাত্রীবাহী জাহাজ অথবা উড়োজাহাজ গেলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না? কেন এর কাছাকাছি গেলে মানুষ সব অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়? একদল গবেষক মনে করেন এই সমুদ্রের নীচে রয়েছে অন্য গ্রহের মানুষের বসবাস, তারাই এই সকল ঘটনার জন্য দায়ী। আবার অনেকে মনে করেন হয়তো কোন অদ্ভুত কারণে পৃথিবীর সাথে বাইরের কোন গ্রহের অদৃশ্য একটি দরজা সৃষ্টি হয়েছে। হয়ত এসকল জাহাজ বা প্লেন সেই অদৃশ্য দরজার ফাদে পড়ে চলে যায় অন্য কোন গ্রহে।

৩)এরিয়া৫১
 এরিয়া৫১

৯) এরিয়া ৫১: এটি হল আমেরিকানদের চরম একটি গোপনীয় সামরিক ঘাটি। আজ পর্যন্ত কোন সাধারণ মানুষ এর পক্ষে এর ভিতরে ঢুকা সম্ভভ হয়নি। এই ঘাটির আসল কাজ কি সেটা জানতে চেয়েও আজও মেলেনি আমেরিকান সরকারের কাছে এর সঠিক উত্তর। এই ব্যাপরটি নিয়ে কোন প্রশ্ন এলেই সবাই এড়িয়ে যায়। প্রায় মাঝে মাঝেই অদ্ভূত সব আকাশযান দেখতে পাওয়া যায় এই ঘাটির কাছাকাছি। পৃথিবীর কোন আকাশযানের সাথে এর কোন প্রকার মিল নেই। অপরিচিত কাউকে দেখা মাত্রই গুলি করা হবে এরকম নির্দেশ ঝোলানো আছে এই ঘাটির চারপাশে। ভিতরে কি আছে বা কি হচ্ছে এর ভিতরে, কোনভাবেই অন্য কোন মানুষর এর পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। অনেকে ধারণা করে যে এলিয়েনরা পৃথিবীর সাথে নিয়মিত যোগযোগ করেছে। নিয়মিত তারা আসছে পৃথিবীতে। আর তাদের সেই আস্তানা হলো এই এরিয়া ৫১ পৃথিবীর মানুষরা যাতে ভুলেও কোন কিছু দেখতে বা জানতে না পারে সেজন্যই এত গোপনীয়তা রাখা হয় এখানে।

৪)প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড।

প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড: আরেকটি সব থেকে বিতর্কিত ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফায়াদ এক ভয়াভহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্হা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াভহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্হায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফায়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল।






৫)) ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই, লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন
 Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না WHO: দাতের ক্ষয়রোধ করার জন্য পানযোগ্য পানিতে Fluoride মেশানো হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটি প্রমাণিত যে এই Fluoride এর অনেক খারাপ দিকও আছে। এর বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিকিয়া মানুষের শরীরকে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত করে। একদল গবেষক এর ধারণা এসব জানা সত্ত্বেও WHO এই Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না। কারণ এর পিছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসা। এর পিছনে রয়েছে বিশাল বিশাল সব ঔষুধ কোম্পানী। কারন মানুষ অসুস্হ থাকলেই তো এদের লাভ। আর মানুষ যদি অসুস্হ না থাকে তাহলে এত ঔষুধ কোম্পানী চলবে কী করে

৯)১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক Elvis Presley মারা যান

বদনজর, নজরদোষ কুসংস্কার নয়! জানুন বদনজর সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

বদনজর, নজরদোষ কুসংস্কার নয়! জানুন বদনজর সম্পর্কে ইসলাম কি বলে







জাবের রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সা. বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে তাকদির অনুযায়ী মৃত্যুর পর অধিকাংশ মৃত্যুই হবে বদ নজর লাগার কারণে’।(সহীহুল জামি) বদনযর ইসলামে বিশুদ্ধতম ঈমানী আক্বিদার অংশ। কোরআন ও হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত। রাসুল সা. আরও বলেছেন, “যদি কোনও কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারে তা হলো বদনযর।”(সহীহ মুসলিম) তাকদির আল্লাহ্‌ মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই লিখে রেখেছেন। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় আছে যা পরিবর্তনশীল তাকদিরের অন্তর্গত। যেমন কখন কার মৃত্যু হবে, এটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু প্রত্যেকেই মরবে এটা অপরিবর্তনীয় তাকদির। যাই হোক সেরকম পরিবর্তনশীল তাকদীরে কিছু কিছু জিনিস এমন আছে, যা বদল আনতে পারে। যেমন দোয়া, বদনযর, স্বপ্নের তা’বীর। বদনযর যেমন অসুস্থতার তৈরি করে সীমাহীন দুর্ভোগ আনতে পারে তেমনি মৃত্যুও ঘটতে পারে এর প্রভাবে। মৃত্যুর ব্যাপারে উম্মতের জন্য নির্ধারিত কারণের বাইরে বদনযরই সবচে’ বেশি কারণ হয়ে উঠবে। যেমন জাবের রা. বলেন, রাসুল বলেছেন, “বদ নজর মানুষকে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং উটকে পাতিল (মানে রান্নার জন্য চুলায়) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়”।(সহীহুল জামি) বদ নযর দু ধরণের। একটা হচ্ছে, জ্বীনের দ্বারা, আরেকটা হচ্ছে মানুষের দ্বারা। ইবনে হাজার আসকালানী বদনযরের সংজ্ঞায় বলেন, কোন উত্তম বস্তুর প্রতি যখন মন্দ স্বভাবের কেউ হিংসার চোখে তাকায় আর এর ফলে সেই মানুষ বা প্রাণী অথবা অন্য কিছুর ক্ষতি সাধিত হয়, তখন তা বদ নযর। অর্থাৎ, হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রবল লোভপূর্ণ দৃষ্টির মাঝে এক ধরণের অদৃশ্য বিষ রয়েছে। কোনও কোনও হাদীসে বদ নযরকে আল-হামার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যার অনুবাদ করলে দাঁড়ায় এমন কিছু যাতে ‘প্রাণঘাতী বিষ’ (Lethal poison) আছে। ইবনুল কাইয়্যুম রহ. আরও চমৎকার আলোচনা করেছেন। বদনযর যে কারো দ্বারা হতে পারে, ইচ্ছেয় বা অনিচ্ছায়। তাছাড়া বদনযর মূলত অন্তরের প্রভাবে, তাই অন্ধ ব্যাক্তির দ্বারাও বদনযর হতে পারে। উত্তম স্বভাবের কোনও ব্যাক্তির মুগ্ধতার নজরেও কখনো কখনো বদনজর পড়তে পারে। কিম্বা কিছু না দেখে কেবল বর্ণনা শোনার দ্বারা অনুপস্থিত ব্যাক্তি বা বস্তুর উপর বদনযরের প্রভাব পড়তে পারে। ফলত আমাদের সোশাল মিডিয়া বদনযরের আওতামুক্ত না। সূরা ইউসুফে দেখা যায় ইয়াকুব আ. তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে বদনযর নিয়ে বিচলিত হচ্ছিলেন! আর আমাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, একটা বড়ো অংশই আমরা বদনযরের ব্যাপারে সচেতন নই। আর এই জন্য এই অদৃশ্য রোগে মৃত্যুহার বেশি। বদনযরের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে, রোগ হওয়া অথচ দীর্ঘদিনেও সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরোগ্য না হওয়া। অহেতুক শারীরিক অবসাদ, ক্লান্তি, চেহারা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া এইসব। হাদিসে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে, বদ নযরের চিকিৎসা হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। কার দ্বারা বদনযরে আক্রান্ত হয়েছে, জানতে পারলে তাকে ওযু করিয়ে সে পানি আক্রান্ত ব্যাক্তির গায়ে ঢেলে দিলে বদনযরের প্রভাব মুক্ত হবে, এটাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। বদনযর কিম্বা যাই হোক, আল্লাহ্‌র ইচ্ছে ছাড়া কিছুই হয় না। এটাও এক ধরণের আজাব হিসেবেও ক্ষেত্র বিশেষ আসতে পারে। তাই গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা করা, নামাজে যত্নশীল হওয়া জরুরি। বদনযর থেকে বাঁচতে ফজর ও মাগরিবের পর আয়াতুল কুরসি, তিন কুলের (ইখলাস, ফালাক, নাস) আমল করবে। আক্রান্ত ব্যাক্তিদের এইসব পাঠ করে ফুঁ দিলেও আরোগ্য মিলবে। এই ব্যাপারে দোয়াও আছে হাদীসে। নিজের দ্বারা অন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই সুন্দর জিনিস দেখলে বরকতের দোয়া করবে। আর অতি অবশ্যই আধুনিকতার নাম করে, বিজ্ঞানের বুলি তুলে বদনযর অস্বীকার করাটা যেন ঈমান আর জীবন দুইয়েরই নাশকারী না হয়, সেদিকে আমাদের সাবধান থাকা উচিত।


মায়া সভ্যতাঃ প্রাচীন ইতিহাসের এক বিস্ময়কর রহস্য!



চার হাজার বছর আগের কথা। সভ্য মানুষের জীবন যাপন কিংবা সভ্য সমাজের কথা ভাবাটা অন্তত সেই সময়কালে অবান্তর ছিল বটে! কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। যে যুগে ঘর তৈরি করতে শেখেনি মানুষ, যে যুগে জ্ঞানী মানুষের ব্যপারটা একদমই অকল্পনীয়, সেই যুগেও এমন জাতি ছিল যারা নিজেদের সংস্কৃতি সভ্যতায় রীতিমত সচ্ছল; জীবন যাপন করত সগৌরবে! বিশ পঁচিশ তলা পর্যন্ত ভবনও তৈরী করেছিল তারা। শুধু তা নয়, জ্যোতির্বিদ্যা আর ভাষা নিয়েও ছিল তাদের অভাবনীয় জ্ঞান! অবাক করার মত বিষয় বটে! এমনই হৈ চৈ ফেলে দেয়া ইতিহাস সৃষ্টিকারী জাতি ছিল মায়ানরা। যা বছরেরে পর বছর রয়েছে অন্যান্য জাতির কাছে একদমই অজানা। অদ্ভুত এক পান্ডুলিপি আবিষ্কার হলো হঠাত, যার কোনো অক্ষর নেই, বর্ণ নেই। ভাষা যায় না বোঝা। কিন্তু কিছু একটা বলা আছে তাতে, কিছু একটা যে বলা আছে সেটা ঠিকই বোঝা যায়। ছোট ছোট ছবি পাশাপাশি আঁকা। নৃতত্ববীদদের মনযোগ কাড়লো। ফলত ধীরে ধিরে আবিষ্কৃত হলো অনেক কিছুই। আলোয় আসলো মায়ান সভ্যতার সাতকাহন
অদ্ভুত এক পান্ডুলিপি আবিষ্কার হলো হঠাত, যার ভাষা যায় না বোঝা!



এই মায়া জাতির আবাস ছিল মেসো আমেরিকায়। যা বর্তমান মধ্য আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত। ভীষণ শক্তিশালী আর সুদক্ষ জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল তারা। অ



তীতের আরো বিভিন্ন জাতির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে যে, অন্যান্য জাতির মানুষেরা অনেকেই সাধারণত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে অভ্যস্ত ছিল। অনেকেই যাযাবর জীবন যাপন করত। কিন্তু মায়ারা তেমন ছিল না। তাদের নির্দিষ্ট ঘর বাড়ি ছিল, ছিল নিজেদের ভূ-খণ্ড। তারা বাড়ি তৈরি করতে জানত। তারা ভূমির অবস্থান নিয়ে বসবাস করতে জানত। যদিও ধারণা করা হয়ে থাকে, শুরুর দিকে তারা একেবারে যাযাবরদের মতই ছিল। ঘুরে বেড়াত দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত খাবার আর বাসস্থানের খোঁজে। কিন্তু পরে তারা আস্তে আস্তে একত্রিত হতে শুরু করে। গড়ে তোলে স্থায়ী আবাসন। ভৌগলিক অবস্থানের বিবেচনায় গুয়াতেমালা, হন্ডুরাসসহ এল সাল্ভেদরেরে কিছু অংশ জুড়ে ছিল তাদের বসবাস। তারা একত্রে থাকতে যেমন পছন্দ করত। অন্যদের আক্রমণও তেমনই সহজে প্রতিহত করতে সক্ষম ছিল। পেশা হিসেবে তারা বেছে নিয়েছিল পশুপালনকে। তাদের খাবার সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।
মধ্য আমেরিকার জঙ্গলে আবিষ্কৃত হল মায়া সভতার বিস্ময়কর স্থাপনা!


মেক্সিকোতে আবিষ্কৃত মায়ান সভ্যতার নিদর্শন!




আবিষ্কৃত মায়ান পান্ডুলিপি থেকে যতদূর জানা যায়, তাতে বোঝা যায় ভাষার লৈখিক রূপ হিসেবে তাদের কোনো বর্ণমালা ছিল না। তবে কি তাদের ভাষা ছিল না? না। এমনটি নয়। তাদের ভাষা অবশ্যই ছিল, যেটা দিয়ে তারা ভাবের আদান-প্রদান করত। তবে বর্ণের পরিবর্তে তারা ব্যবহার কত কিছু সাংকেতিক ছবি বা চিহ্ন। এইসব সাংকেতিক ছবি পাশাপাশি এঁকে তারা তাদের ভাব বোঝাত। যেহেতু কলম আবিষ্কার হয়নি তখনও। তাই লিখত তারা তুলি দিয়ে। আর লেখার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ এই তুলি বানাত তারা পশুর লোম কিংবা লেজ দিয়ে। বই বানাত তারা গাছের বাকল দিয়ে। এই বইগুলোকে কোডেক্স বলা হয়। গবেষণায় জানা যায়, তাদের ভাষায় ব্যবহৃত এসব ছবির সংখ্যা হিসেব করলে আট শ’ কিংবা তারও বেশি পাওয়া যায়। আর কোডেক্স তথা বই উদ্ধার করা গেছে মোট চারটি। এবার আসি তাদের ধর্ম বিশ্বাসের ব্যাপারে। মায়ানদের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ই হলো তাদের ধর্ম বিশ্বাস। কারণ তাদের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে রয়েছে বহু মত। বস্তুত তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ধর্ম পালন করে এসেছে। তাই তাদের ধর্মের ব্যপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলাও যায় না। ধর্ম ছিল তাদের কাছে বেশ রহস্যজনক এবং গোপনীয় বিষয়। ধর্মের অনেক বিষয়ই তারা পালন করত বিশেষ গোপনীয়তার সাথ। ধারণা করা হয়, মায়া জাতি ঈশ্বরে বিশ্বাস করত। তারা আরো বিশ্বাস করত যে, সকল প্রাণের একমাত্র ত্রাণকর্তাই ঈশ্বর। তিনিই পারেন প্রাণ দান করতে, আবার তাতে শক্তিও যোগান এই ঈশ্বর। এই শক্তি কেবল ঈশ্বর মারফতই পাওয়া যায়। তিনিই পারেন ইহজাগতিক পরজাগতিক অস্তিত্ব অনস্তিত্বের সমাবেশ ঘটাতে। তাদের বিশ্বাসের আরেকটা বিশেষ বিষয় ছিল চন্দ্র, সূর্য এমনকি বৃষ্টিতে মিশে থাকেন ঈশ্বর। মানুষ প্রার্থনা করলে সেটাও তিনি শুনতে পান। আর তাদের এই ঈশ্বরের নিকট বিশেষ স্থান লাভ করার আশায় যেটি করত, তা হলো রক্ত বিসর্জন। এই ক্ষেত্রে তারা বেশ ভয়ংকর কিছু ব্যপারও করত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ইশ্বরের জন্য রক্ত বিসর্জন করত। এভাবেই তাদের বিশ্বাস যে তারা নাকি ঈশ্বরের দর্শন লাভ করতে পারবে। এ সব কিছুই তারা করত বেশ গোপনে। এমনকি রাজারাও এসব কাজে লিপ্ত হত, ইশ্বরের দর্শনলাভেচ্ছায়। নিজেরা রক্ত বিসর্জন দিত। অন্যান্য মতামতও পাওয়া যায় এদের ধর্মের ব্যপারে। কেউ কেউ বলেছেন,বেশিরভাগ মায়ানরাই নাকি প্রকৃতির পূজা করত। প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয়কে তাদের উপাসক বানিয়ে তার প্রার্থনা করত। মানব জাতির জন্মের ব্যপারে তাদের বিশ্বাস ছিল যে, পৃথিবীর সকল মানুষের আবির্ভাব নাকি ছোট ছোট শস্যদানা থেকে।

ওদিকে আবার মায়ানরা নরবলিতেও সিদ্ধহস্ত ছিল বলে শোনা যায়। আর এটাও নাকি তাদের ধর্ম বিশ্বাসের অন্তর্ভূক্ত ছিল। মায়া জাতির বিভিন্ন দেবতাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চিয়াক, আহপুছ, কিনিস আহাউ, বি, এল। এরা কেউ মৃত্যুর দেবতা, কেউ সূর্যের কেউ নরকের এরকমভাবে বিভিন্ন নামে, ভিন্ন ভিন্ন দেবতা ছিল তাদের। তবে এদের মধ্যে প্রধান দুই অমর দেবতা ছিল ইতজামনা ও কুকুলকান। চিচেন ইতজা নামে একটি শহরও ছিল তাদের। যেটি মূলত নরবলীর শহর হিসেবেই পরিচিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে তারা এই দুই দেবতার জন্য বিসর্জন দিত আর এই শহরটি ছিল দুইটি প্রাকৃতিক কুয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে। মায়া জাতির সভ্যতা সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছিল এই দুই কুয়া ঘিরে। গড়ে উঠেছিল মঠ, পিরামিডসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্তম্ভও। এগুলোর মধ্যে টেম্পল অফ দি ওয়ারিয়র্স, কারাকোল উল্লেখযোগ্য। এবার একটু তাদের দেবতাদের পরিচয় দিই। প্রধানতম দেবতা ইতজামনা। তাদের মতে ইনি ছিলেন মহান শক্তির আধার। তিনি আকাশচারী দেবতা। মায়ান ধর্মীয় নেতা বা যাজকগণ এই দেবতার নামে নরবলি করত। আর এটাই নাকি ছিল এই দেবতাকে খুশি করার উপায়। নরবলির জন্য তারা বেছে নিত বিশেষ সময়। সময়ানুযায়ী পিরামিডের উপর গিয়ে করা হত নরবলি। আর এক্ষেত্রে তারা তাদের নিজেদের ক্যালেন্ডারও অনুসরন করত। বলিদানের সময় অনুসরণ করা হত এজটেক রীতি। এই রীতিমত বলিকৃত মানুষটার বুক চিরে ফেলা হত, বের করে আনা হত হৃদপিণ্ড এরপর দেবতার সামনে বিসর্জন দেয়া হত। আর সেই মৃত মানুষের অন্যান্য অঙ্গ যেমন হাত, পা রেখে দিত তারা নিজেদের কাছে। আরো বিস্ময়কর এবং ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, এই বলির শিকার যারা হত, তারা কেউই তাদের নিজেদের জাতির কেউ ছিল। ভুলক্রমে বা কোনোভাবে যদি অন্য কোনো সমাজ বা জাতির কোনো লোক তাদের রাজ্যে এসে পড়ত তাদেরকেই হতে হত ভয়ঙ্কর এই নরবলির শিকার। অন্যদিকে তাদের আরেক দেবতা কুকুলকানের সাথে মিল পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এক দেবীর সঙ্গে। অনেকের মতে, কুকুলকানের সাথে দেবী মনসার মিল রয়েছে। কুকুলকানও ছিল মায়ানদের সাপের দেবতা। আর তার বাবাকে বলা হত সাপেদের রাজা। তাদের মতে, ডানাওয়ালা এক সরীসৃপ হল কুকুলকান। মায়ারা শ্রদ্ধা কর‍ত এই দেবতাকে; পূজা করত। এই কুকুলকানের উপাসনাই ছিল মায়ানদের রাষ্ট্রধর্ম। নবম ও দশম শতকের মাঝামাঝি সময়। মায়া জাতি তৈরি করল একশ’ ফুট উচ্চতার এক পিরামিড। যেটা কেবল এই কুকুলকানের উপাসনা করার উদ্দেশ্যেই বানানো হয়েছিল। এই পিরামিডের সিঁড়ির ধাপ ছিল চারদিকে মোট একানব্বইটি করে। ওদিকে আবার উপরে ওঠার জন্য আরেক ধাপ সিঁড়ি। ধারণা করা হয়, সবগুলো মিলিয়ে এই পিরামিডের সিঁড়িতে ধাপ ছিল মোট তিনশ’ পঁয়ষট্টিটি।

কুকুলকানের উপাসনার জন্য তৈরি করা পিরামিড!




কুকুলকানের উপাসনার জন্য তৈরি করা এই পিরামিডের আরো কিছু বিশেষত্ব ছিল। যে পিরামিডকে ঘিরে মায়ান রাজ্যের মানুষগণ মিলিত হত বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন উপলক্ষে। এই পিরামিড তৈরিতে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল যে, বিষুবরেখা প্রদক্ষিণ করার সময় সূর্যের আলো যখন পিরামিডের উপর পড়ত তখন এমন এক ছায়ার সৃষ্টি হত। সেই ছায়া দেখলে মনে হত যেন পিরামিড বেয়ে নেমে আসছে বিশাল আকৃতির এক সরীসৃপ। কী অদ্ভুত! তাই না? ওই যুগেও এমন বৈজ্ঞানিক কুশলী ছিল তারা। ভাবা যায়! আজকের এই যুগে এসেও যেখানে অসংখ্য অশিক্ষিত জাতিগোষ্ঠির বাস রয়েছে। অথচ সেই চার হাজার বছর আগেই তারা এত উন্নত বিজ্ঞানসম্মত জীবন যাপন করত। ইতিহাসের কাছে এ এক বিস্ময়কর বিষয় বটে।


পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি তাঁর এলাকায় একাই বেঁচে আছেন

হয়তো শুনে অবাকই হবেন। পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি তাঁর এলাকায় একাই বেঁচে আছেন। তাঁর গোত্রের আর কোনো সদস্য বেঁচে নেই। কত দিন ধরে তিনি একা বেঁচে আছেন? বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, তাঁর এই একাকিত্ব ২২ বছরের! নিঃসঙ্গ বেঁচে থাকা এই মানুষটির বসবাস ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে। বর্তমানে তিনি দেশটির রন্ডুনিয়া প্রদেশের আমাজন অঞ্চলে রয়েছেন। আমাজনে বসবাসরত স্থানীয় নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করে ব্রাজিল সরকারের ইন্ডিজেনিয়াস সংস্থা ‘ফুনাই’। সংস্থাটির দাবি, লোকটি এখনো সুস্থ আছেন। তিনি শিকার করছেন, পেঁপে ও ভুট্টা চাষ করছেন।

১৯৯৬ সাল থেকে ওই ব্যক্তির দিকে নজর রাখছে ফুনাই। ধারণা করা হচ্ছে, লোকটির বয়স ৫০ বছরের কিছু বেশি হবে। একাকী বেঁচে থাকা এই ব্যক্তির ওপর অল্প কিছু নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র ও সংবাদপত্রের নিবন্ধ প্রকাশিত হলেও কেউই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। কারণ ওই ব্যক্তি বা তাঁর গোত্রের ভাষা কী, তা গবেষকদের জানা নেই। এ কারণে ওই ব্যক্তির নাম কী, তা জানা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই ব্যক্তি যে গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, তার নামটিও জানা যায়নি। ফুনাই যে ভিডিওটি প্রকাশ করে, তা খুব একটা স্পষ্ট নয়। দূর থেকে ওই ভিডিও করা হয়েছি বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি কুঠার দিয়ে গাছ কাটছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুনাইয়ের একজন আঞ্চলিক সমন্বয়ক আলতেইর আলগায়ার গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমরা তাঁকে পুনরায় দেখতে পেয়ে খুব খুশি, বিস্মিত। তাঁর স্বাস্থ্য খুবই ভালো। তিনি শিকার করছেন, পেঁপে ও ভুট্টা পরিচর্যা করছেন।’ ফুনাই বিশ্বাস করে, আমাজনে ১১৩টির মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে। গার্ডিয়ান বলছে, ব্যক্তির শিকারের তালিকায় রয়েছে শূকর, পাখি ও বানর। এই ব্যক্তির শিকার পদ্ধতির ধরন দেখে ব্রাজিলের গণমাধ্যম তাঁর একটি উপাধিও ঠিক করেছে। আর তা হলো ‘দা হোল ইন্ডিয়ান’। ‘হোল’ বা গর্ত করে তার ওপর গাছের চটা বা পাতা দিয়ে বিশেষ ধরনের ফাঁদ তৈরি করা হয়। যার মধ্যে শিকার পড়ে থাকে। ফুনাই বলছে, আগে ব্যক্তিটি একটি কুঁড়েঘরও বানিয়েছিল। সেখানে তাঁর কিছু আসবাবও ছিল। এর মধ্যে হাতে তৈরি কাঠ ও কষ দিয়ে তৈরি মশাল এবং তির অন্যতম। তবে এই ব্যক্তি বর্তমানে যে অঞ্চলে বসবাস করছেন সেখানে কাঠামোগত কোনো ঘরের অস্তিত্ব এখনো পাওয়া যায়নি। বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাজনের যে অংশে ‘নিঃসঙ্গ’ মানুষটির গোত্র বাস করত, ১৯৭০ থেকে ৮০ সালের দিকে সেখানে মহাসড়ক নির্মাণ হয়। ফলে গোত্রটি বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। সর্বশেষ বর্তমানে বেঁচে থাকা ব্যক্তিসহ একসঙ্গে বসবাস করতেন ছয়জন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে এই ব্যক্তি ছাড়া বাকি পাঁচজন খুন হন। ফুনাই বলছে, ১৯৯৬ থেকে তারা ব্যক্তিটিকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই পর্যবেক্ষণের পেছনে কিছু কারণও উল্লেখ করে ফুনাই। যেমন প্রথমত, তিনি বেঁচে আছেন কি না তা দেখা। দ্বিতীয়ত, কোন কোন এলাকায় তিনি ঘোরাফেরা করেন, সে স্থানগুলো শনাক্ত করা। ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার রয়েছে। ফুনাই বলছে, লোকটি যে অঞ্চলে বর্তমানে ঘোরাঘুরি করছে, তা সংরক্ষিত করার জন্য সরকারের নতুন করে আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য তারা এ ভিডিওটি ধারণ করেছিল। পর্যটকদের জন্য ওই স্থানটি সংরক্ষিত থাকবে। তাদের প্রতি নির্দেশ থাকবে, তারা যেন ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা না করে। ফুনাইয়ের পক্ষ থেকে যে গবেষক দল আমাজনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানে গিয়েছিল, এর মধ্যে একজন ছিলেন ফিয়োনা ওয়াটসন। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তির রয়েছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সে পৃথিবীকে একটি বিপজ্জনক স্থান হিসেবে দেখেছে।’ এর আগে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলিয়ান সরকারে একটি তথ্যচিত্র এই ব্যক্তির মুখচ্ছবি দেখানো হয়। তবে তা-ও ছিল অস্পষ্ট।


যে রহস্য বাংলাদেশের বহু মানুষেরই অজানা

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কেওকারাডং পর্বতের গা ঘেষে, রুমা উপজেলায় অবস্থিত রহস্যময় বগা লেক। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বগা লেক অনেক ভ্রমনপিপাসু মানুষের প্রিয় জায়গা। কিন্তু ক’জন জানেন যে এই বগা লেকের উৎপত্তি নিয়ে গা-শিউরানো রহস্যের কথা? বগা লেকটির আশেপাশে ‘বম’ উপজাতির বসবাস। তাদের ভাষায়, এখন যেখানে বগা লেকটি রয়েছে, সেখানে আসলে একটি চোঙাকৃতির বিশাল পাহাড় ছিল। সবকিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল। তবে হঠাৎ করে একদিন পাহাড়ের পাসের গ্রামগুলো থেকে গরু, ছাগল থেকে শুরু করে এমনকি ছোট ছোট বাচ্চারাও হারিয়ে যেতে থাকলো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে জানা গেল, বাচ্চাগুলোর ও গরুছাগলের সর্বশেষ পায়ের ছাপ রয়েছে ঐ পাহাড়ে। তখন সবাই ধারণা করতে শুরু করলো, নিশ্চয়ই ভয়ংকর কিছু একটি রয়েছে ঐ পাহাড়ের কোলে, আর সেটারই আক্রমণের শিকার হচ্ছে নিরীহ এই প্রাণী আর বাচ্চারা। একদল সাহসী যুবকদের আসল রহস্য উদঘাটন করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। অনেক অনুসন্ধান করতে করতে পাহাড়ের মাথায় উঠে দেখতে পেল সেখানে একটি গুহায় আস্তানা গেড়েছে এক মস্ত বড় ড্রাগন। তাদের আর বুঝতে বাকি থাকলো না যে এতগুলো প্রাণী ও বাচ্চাগুলোর হারিয়ে যাওয়ার পিছনে এই ড্রাগনেরই হাত রয়েছে। বম ভাষায় ড্রাগনকে ‘বগা’ বলা হয়। গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নিল যে, যে করেই হোক এই ড্রাগনকে মেরে ফেলতে হবে। তারা বেছে বেছে সাহসী তরুণদের নিয়ে একটি দল তৈরি করলো। তীর, ধনুক, বল্লম, লাঠি আর মশাল নিয়ে রাতের অন্ধকারে তারা হানা দিল গুহায়। গুহার মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষের রক্ত আর হাড়গোড় দেখে তারা বুঝে নিল কী ঘটেছে। একসঙ্গে তারা সেই ড্রাগন অর্থাৎ বগার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। তুমুল যুদ্ধ হল দুই পক্ষের মধ্যে। লড়তে লড়তে বগার প্রাণবায়ু যখন প্রায় শেষ, তখন বগা তার মুখ থেকে আগুনের শিখা ছুঁড়ে মারে গ্রামবাসীর দিকে। সেই আগুন পুরো পাহাড়কে গ্রাস করে ফেলে। বিস্ফোরিত হতে শুরু করে চারিদিক। শুরু হয় ভূমিকম্প। ভূমিকম্পে সেই পাহাড়টি ভেঙে তৈরি হয় এক বিশাল গর্তের। সময়ের পরিক্রমায় সেই বিশাল গর্তটিই আজ আমাদের কাছে ‘বগা লেক’ নামে পরিচিত। তবে এই পৌরাণিক কাহিনী মানতে নারাজ ভূতাত্বিকদের মতে, বগা লেক মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের কারণে এর সৃষ্টি। বগা লেক-এর পানি অম্লধর্মী। জলজ প্রাণী গু‌লো‌কে এখা‌নে প্র‌তিকূলতার সা‌থেই বেঁ‌চে থাক‌তে হয় । বাইরের কোনো পানি এখানে ঢুকতেও পারে না, আবার এর আশপাশে নেই পানির কোনো দৃশ্যমান উৎস। তবে এটির ব্যাখাও দিয়েছেন ভূত্বাতিকরা। তারা বলেছেন, লেকটির তলদেশে একটি উষ্ণ ঝর্ণা রয়েছে। ঝর্ণা থেকে যখন পানি বের হয়, তখনই হ্রদের পানির রঙ বদলে যায়।


উত্তপ্ত বরফ

উত্তপ্ত বরফ



পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৩ আলোকবর্ষ দূরে একটা গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা যার পুরো পৃষ্ঠটাই নাকি “Burning Ice” এ আবৃত! খটকা লাগছে? আসল ঘটনাটা হচ্ছে, এই গ্রহের পৃষ্ঠে প্রচণ্ড চাপের কারণে পানি কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে, আর গ্রহ পৃষ্ঠে তাপমাত্রা অনেক বেশি বলে এই জমাট বরফ থেকে বাষ্প নির্গত হয়। তাই বিজ্ঞানীরা একে বলছেন “Burning Ice”।